Free Bangla Books Download Now: Himu
Showing posts with label Himu. Show all posts
Showing posts with label Himu. Show all posts

Tuesday, July 10, 2018

Moyurakkhir Tire By Humayun Ahmed (ময়ূরাক্ষীর তীরে প্রথম হিমু)

Tuesday, July 10, 2018 0
Moyurakkhir Tire By Humayun Ahmed (ময়ূরাক্ষীর তীরে প্রথম হিমু)

ময়ূরাক্ষী বের হওয়ার পর পরই যুবক শ্রেণীর বিরাট অংশ হলুদ পাঞ্জাবি পরে রাস্তায় নেমে গেল। আমিও মনের আনন্দে একের পর এক হিমু বাজারে ছাড়তে লাগলাম। পাশ বইয়ের খাতায় টাকা জমা হতে লাগল। শুরুতে হিমুকে আমি মোটেই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করিনি। তখন আমার প্রিয় চরিত্র মিসির আলি। আমি লিখছি মিসির আলি। এই ভদ্রলোকের লজিকে এবং বিশ্লেষণী ক্ষমতায় আমি মুগ্ধ।
এর মধ্যে আমার অর্থনৈতিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে| বন্ধু-বান্ধব‚ ব্যাংক এবং প্রকাশকদের কাছ থেকে ধার করে এলিফ্যান্ট রোডে একটা ফ্ল্যাট কিনে ফেলেছি। পনেরশ স্কয়ার ফিটের ছোট্ট ফ্ল্যাট। তাতে কী‚ দুটো বেডরুম আছে। একটা বারান্দা আছে। বারান্দায় বসলে সুন্দর কোনো প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে পাই না। জুতার দোকান দেখতে পাই। ছয়তলা থেকে জুতার দোকান দেখা খারাপ কিছু না।

বারান্দায় বসে চা খেতে খেতে আমি জুতার দোকান দেখি এবং পরের লেখাটা কী হবে ভাবি। আমার তিন মেয়ে তখন সামান্য বড় হয়েছে। বড় মেয়েটি ক্লাস সিক্সে পড়ে‚ মেজোটি পড়ে ক্লাস ফোরে। ভোরবেলা স্কুলের পোশাক পরে তারা কিছুক্ষণ ধবল রঙের ডিপফ্রিজের সামনে দাঁড়ায়।

কারণ তাদের বাবা রাতে যা লিখেছে তা ডিপফ্রিজের উপর সাজানো থাকে। আমার এই দুই কন্যা বাবার লেখার সর্বশেষ অংশ না পড়ে স্কুলে যাবে না। আমার লেখক জীবনে এর চেয়ে বড় পুরস্কার পেয়েছি বলে মনে পড়ে না। আমার এই দুই কন্যার কোনো একজন‚ খুব সম্ভব বড়জন আমাকে একদিন বলল‚ বাবা ময়ূরাক্ষীর মতো আরেকটা বই লেখ। হিমুর বই।

হিমুকে নিয়ে কন্যার আগ্রহে লিখে শেষ করলাম দরজার ওপাশে। বই প্রকাশিত হলো। আমি পড়লাম মহাবিপদে। হাইকোর্টে বিচারকদের সমিতি আছে। সমিতির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হলো‚ এই বইটি লিখে আমি মহা অন্যায় করেছি। মহান বিচারকদের সম্মান ধুলায় লুটিয়ে দিয়েছি। কারণ আমি লিখেছি জজ সাহেবরা ঘুষ খান।

                    উপন্যাসে ঘটনাটা এ রকম - হিমুর মাতুল বংশ পিশাচ শ্রেণীর। তারা হেন দুষ্কর্ম নাই যা করে না। তাদের ধারণা যেকোনো কাজ টাকা দিয়ে করানো সম্ভব। তাদেরই একজন জজ সাহেবকে ঘুষ দিয়ে এই কাজটা করাতে চাচ্ছে। জজ সাহেবরা ঘুষ খান - এটি হিমুর ধান্ধাবাজ মামার কথা। বইতে কিভাবে এসেছে দেখা যাক।

"মামা গোসল করে জায়নামাজে বসে গেলেন। দীর্ঘ সময় লাগল নামাজ শেষ করতে। তার চেহারা হয়েছে সুফি সাধকের মতো। ধবধবে সাদা লম্বা দাড়ি। মোনাজাত করার সময় টপটপ করে তার চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল। আমি অবাক হয়ে এই দৃশ্য দেখলাম।

         -তারপর বল‚ কী ব্যাপার?
         -একজন লোক জেলখানায় আছে মামা। ওর সঙ্গে দেখা করা দরকার‚ দেখা করার কায়দা পাচ্ছি না। দরখাস্ত করেছি‚ লাভ হয়নি।
         -খুনের আসামি? তিনশ বারো ধারা?

         -কোন ধারা তা জানি না‚ তবে খুনের আসামি।
         -এটা কোনো ব্যাপারই না। টাকা খাওয়াতে হবে। এই দেশে এমন কোনো জিনিস নেই যা টাকায় হয় না।
         -টাকা তো মামা আমার নেই।
         -টাকার চিন্তা তোকে করতে বলছি নাকি? আমরা আছি কী জন্য? মরে তো যাই নাই। টাকা সঙ্গে নিয়ে আসছি। দরকার হলে জমি বেঁচে দেব। খুনের মামলাটা কী রকম বল শুনি। আসামি ছাড়ায়ে আনতে হবে।
         -তুমি পারবে না মামা। তোমার ক্ষমতার বাইরে।
         -আগে বল‚ তারপর বুঝব পারব কী পারব না। টাকা থাকলে এই দেশে খুন কোনো ব্যাপারই না। এক লাখ টাকা থাকলে দুটো খুন করা যায়। প্রতি খুনে খরচ হয় পঞ্চাশ হাজার। পলিটিক্যাল লোক হলে কিছু বেশি লাগে।

আমি মোবারক হোসেন সাহেবের ব্যাপারটা বললাম। মামা গালে হাত দিযে গভীর আগ্রহ নিয়ে শুনলেন। সব শুনে দীর্ঘ নি:শ্বাস ফেলে বললেন‚ পুলিশের সাজানো মামলা‚ পেছনে আছে বড় খুঁটি। কিছু করা যাবে না। ট্রাইব্যুনাল করলে কোনো আশা নাই‚ সিভিল কোর্ট হলে আশা আছে। জজ সাহেবদের টাকা খাওয়াতে হবে। আগে জজ সাহেবরা টাকা খেত না। এখন খায়। অনেক জজ দেখেছি কাতলা মাছের মতো হাঁ করে থাকে। কেইস সিভিল কোর্টে উঠলে আমারে খবর দিয়ে নিয়ে আসবি।

                     মামলা মোকদ্দমা বিষয়ে আমার কোনো অভিজ্ঞতা নেই| সব সময় শুনেছি মামলা লোয়ার কোর্ট থেকে হাইকোর্টে যায়‚ তারপর সুপ্রিম কোর্টে। আমার বেলায় সরাসরি হাইকোর্ট থেকে তলব। শুধু আমি একা আসামি তা কিন্তু না। আমাকে নিয়ে বিচারকরা মামলা করেছেন এই বিষয়টি যেসব পত্রিকায় ছাপা হয়েছে তারাও আসামি। তাতে আমার সুবিধা হলো‚ পত্রিকার সম্পাদকরা বড় বড় ব্যারিস্টার দিলেন। এই মুহূর্তে ড. কামাল হোসেন এবং ভাষাসৈনিক গাজিউল হকের নাম মনে পড়ছে।

পত্রিকার সম্পাদকরা উপস্থিত হয়ে ক্ষমা চাইলেন এবং পার পেয়ে গেলেন| অ্যাটর্নি জেনারেল তার অফিসে আমাকে ডেকে নিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বললেন। তিনি আমাকে আশ্বাস দিলেন যে‚ ক্ষমা প্রার্থনা করলে এবং বিতর্কিত বইটি বাজার থেকে উঠিয়ে নিলে আমার আর কোনো ঝামেলা হবে না।

আমি বললাম‚ ভুল করলেই ক্ষমা প্রার্থনার প্রশ্ন আসে। আমি ভুল করিনি। উপন্যাসের একটি দুষ্ট চরিত্র কী বলছে তার দায়ভার লেখকের না। তারপরেও যদি দায়ভার আমার থাকে তাহলে আমি জজ সাহেবরা ঘুষ খান এই মন্তব্য থেকে সরে আসব না। সব জজ সাহেবের কথা এখানে বলা হয়নি। জজ সাহেবরা ভিনগ্রহ থেকে আসেননি। মানুষের সাধারণ ত্রুটি তাদের মধ্যেও থাকবে।

একজন লেখক হিসেবে আমি তা লিখব। আমাদের সংবিধান মত প্রকাশের অধিকার দিয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল বললেন‚ আপনি কিন্তু বিপদে পড়বেন। আমি বললাম‚ কী আর করা। না হয় একটু বিপদে পড়লাম।

                 মামলা শুরু হলো। আমি হাইকোর্টে যাই। সঙ্গে আমার তিন কন্যা এবং তাদের মা। তারা ভয়ে অস্থির‚ এই বুঝি আমাকে জেলে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। মামলার এক পর্যায়ে তিন বিচারক নিয়ে গঠিত বেঞ্চের একজন বললেন‚ তিনি বিব্রত। মামলায় থাকবেন না। কিছুদিন পর আরেকটি বেঞ্চ তৈরি হলো।

সেই বেঞ্চের এক বিচারকও বললেন তিনি বিব্রত। পনেরো ষোল বছর তো হয়েই গেল‚ বিচারকরা আমার বিষয়ে বিব্রত রয়েই গেলেন। আমার খুব ইচ্ছা করে মামলাটা শেষ পর্যন্ত দেখতে। মামলায় আমি যদি জিতে যাই তাহলে প্রমাণ হবে জজ সাহেবরা সাধারণ লোভ লালসার ঊর্ধ্বে না। আর যদি হেরে জেলে যাই ততেও ক্ষতি নেই।

                  অতীতে এই পৃথিবীতে লেখার মাধ্যমে মত প্রকাশের কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। আমি না হয় কিছুদিন জেলে থাকলাম। আমাকে জেলখানার মেঝেতে শুয়ে থাকতে হবে না। একুশে পদক পাওয়ার কারণে ডিভিশন দেওয়া হবে। বিছানায় ঘুমাব। ভাগ্য ভালো হলে মাথার উপর ফ্যান ঘুরবে। ফ্যান না ঘুরলেও ক্ষতি নেই, চোখ বন্ধ করে ময়ূরাক্ষী নদীকে জেলের ভেতর নিয়ে আসা কঠিন কোনো কাজ না।

Himur Neel Jochna By Humayun Ahmed (হিমুর নীল জোছনা-হুমায়ূন আহমেদ)

Tuesday, July 10, 2018 0
 Himur Neel Jochna By Humayun Ahmed (হিমুর নীল জোছনা-হুমায়ূন আহমেদ)

'হিমু'কে নিয়ে লেখা উপন্যাসগুলো যে খুবই হালকা গোছের, সেখানে কিছু কাঁচা কথা ছাড়া আর কিছু থাকে না, কোন কাহিনী থাকে না - এধরণের বহু অভিযোগ আজ পর্যন্ত শুনেছি। কিন্তু দুঃখের কথা, যাদের মুখ থেকে এ ধরণের স্টেটমেন্ট বেরিয়েছে তারা জীবনে কোনদিন হিমু বিষয়ক একটা বই পড়ে দেখেন নাই। যদি তারা হিমুকে নিয়ে লেখা কোন উপন্যাস পড়তেন তাহলে বুঝতেন, হুমায়ুন আহমেদ তা%র লেখক জীবনের সবচেয়ে সাহসী কাজগুলো করেছেন হিমুকে নিয়ে লেখা উপন্যাস সমূহের ভেতর। আর দশটা সাধারণ উপন্যাসে যে ধরণের কথাবার্তার উল্লেখ থাকলে নিঃসন্দেহে লেখককে তীব্র সমালোচনায় পড়তে হত, সেইসব কথাই অবলীলায় তিনি হিমুর মুখ থেকে বলিয়েছেন। রূপক ভাবে অসংখ্য বিতর্কিত ঘটনাকে তিনি উপস্থাপন করেছেন এই সিরিজের বইগুলোর মাধ্যমেই। কিন্তু সবচেয়ে ভয়াবহ কথাগুলো লেখক লিখেছেন হিমুকে নিয়ে লেখা দুইটি উপন্যাসে। সেই উপন্যাস দুটির একটি হল 'হিমুর নীল জোছনা'। অন্যটি 'হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম'। এই দুইটি উপন্যাসে লেখক সরাসরিভাবে আক্রমন করেছেন দেশের সাম্প্রতিক রাজনীতি, রাজনৈতিক দল আর রাজনৈতিক নেতাদের। 'হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম' উপন্যাসটির পটভূমি ছিল নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে বেগবান হওয়া এরশাদ বিরোধী আন্দোলন। আর 'হিমুর নীল জোছনা' বইয়ের পটভূমি ২০০৮ সালের নির্বাচন পরবর্তি সময়ে আওয়ামী সরকারের শাসনামল। 'হিমুর নীল জোছনা' বইটিতে একের পর এক বোমা ফাটিয়েছেন লেখক। কখনো তিনি ছাত্র রাজনীতির নামে রাজনীতি দলগুলো দেশের ছাত্রসমাজকে কিভাবে অনৈতিকতার চূড়ান্তে পৌঁছে দিচ্ছে তা তুলে ধরেছেন আবার কখনো তিনি ক্ষমতা দখলে মরিয়া রাজনীতিকদের বিচিত্র আচরণকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে সরকারি দলের সাথে ঘটা যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনাকেই আখ্যা দেয়া হয় বিরোধী দলের ষড়যন্ত্র হিসেবে আবার ছাত্রলীগের কেউ অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হলে সরকার মহল দাবি করে অপরাধী মূলত শিবিরের লোক, ছাত্রলীগের সর্বনাশ করতে গোপনে দলে ঢুকেছে। রাজনৈতিক দলগুলো 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবির রহমান' আর 'মেজর জিয়াউর রহমান' এই দুইটি নামকে ব্যক্তি স্বার্থে বানিজ্যিকীকরণ করে চলেছে সেটাও দেখানো হয়েছে। উঠে এসেছে হলুদ সাংবাদিকতার চিত্র, পুলিশের ঘুষ খেয়ে অপরাধিকে ছেড়ে দেয়ার চিত্র। নির্দোষ ব্যক্তিদের জেলে পুরে বিখ্যাত সব মামলার আসামি বানিয়ে পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় কিভাবে নিজেদের আসল দায়িত্ব থেকে সরে আসছে সেটাও দেখানো হয়েছে। আর এত সবের মাঝখানে যেকোনো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া কতটা চমকপ্রদ হয়, সেটা তো দেখানো হয়েছেই! এই বইয়ে সবচেয়ে বড় বোমাটি লেখক ফাটিয়েছেন হিমুর কন্ঠকে কাজে লাগিয়ে প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে যে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে শেখ হাসিনার গ্রেপ্তারের সময় ছাত্রলীগের ভূমিকা কি ছিল যে তারা নিজেদেরকে দেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ বলে দাবি করে। একজন সাহিত্যিক হিসেবে ক্ষমতাবানদের দিকে আঙ্গুল তোলা যে কতটা ঝুকিপূর্ণ তা লেখক জানতেন এবং এ জন্য এই বইয়ের ভূমিকায় লেখক সরাসরি এই বই লেখার প্রেক্ষিতে নিজের কি পরিণতি হতে পারে সে বিষয়ে শংকাও প্রকাশ করেন। হুমায়ুন আহমেদ তার লেখক জীবনে আড়াইশ'র বেশি বই লিখেছেন। অনেক বইয়ের বিষয়বস্তুর সাথে প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতির যোগাযোগ ছিল। কিন্তু সেসব স্থানেও লেখককে দেখা গেছে দুইদিক ব্যালান্স করে কথা বলতে। কিন্তু নিজের জীবনের একেবারে শেষ প্রান্তে, হিমু সিরিজের ২১তম বইতে এসে লেখক নিঃসংকোচে যেভাবে দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সরকারকে নিয়ে স্যাটায়ার করেছেন, তা তাঁর আগে কোন লেখককে ফিকশনধর্মী লেখার মাধ্যমে করতে দেখিনি। এ দিক থেকে ব্যাপারটা সত্যিই অভূতপূর্ব। ক্ষমতাবানদের নিয়ে লেখক কি কঠিন কঠিন সব রসিকতা করেছেন, তাঁর সাক্ষী হতে হলে 'হিমুর নীল জোছনা' বইটি পড়তেই হবে। হিমু এই বইতে দেশের প্রতিটি সচেতন ও নিরপেক্ষ মানুষের কন্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এ এমনই এক বই যা শুধু হিমু ভক্তদেরই না বরং দেশ ও সমাজ সচেতন সকল পাঠকেরই দারুণ ভালো লাগবে। এত বিস্তারিতভাবে লেখকের দেশ ও দেশের সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে ভাবনার চিত্র অন্য কোন বইতে যে ফুটে ওঠে নাই তা বলাই বাহুল্য।

Himur Babar Kothamala By Humayun Ahmed (হিমুর বাবার কথামালা - হুমায়ূন আহমেদ)

Tuesday, July 10, 2018 0
Himur Babar Kothamala By Humayun Ahmed (হিমুর বাবার কথামালা - হুমায়ূন আহমেদ)
হিমুর বাবা মানুষটা কিরকম?
বেঁটে, মোটা, কুৎসিত?
কি পোষাক পরতেন?
লুঙ্গি-গামছা, হাফপেন্ট, টি-শার্ট?
নাকি, হিমুর মতো হলুদ পাঞ্জারী?
তাঁর নাম কি?
বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় চরিত্র
হিমু’র বাবাকে নিয়ে এই বই
হিমুর বাবার কথামালা

* যারা হিমু নয় এই বইটি তাদের জন্য নিষিদ্ধ



Himur Madhyadupur By Humayun Ahmed (হিমুর মধ্যদুপুর - হুমায়ূন আহমেদ)

Tuesday, July 10, 2018 0
Himur Madhyadupur By Humayun Ahmed (হিমুর মধ্যদুপুর - হুমায়ূন আহমেদ)
হিমু, তুই আমাকে একটা কিডনী দিতে পারবি? আমার একটা কিডনী দরকার।
মানুষজনের কথায় হকচাকিয়ে যাওয়া কিংবা বিভ্ৰান্ত হওয়া আমার স্বভাবে নেই। তারপরেও মাজেদা খালার কথায় হকচকিয়ে গেলাম। ধানমন্ডি ২৭ নাম্বার রোডে গাড়ি থামিয়ে তিনি আমাকে ধরেছেন। এখন কিডনী চাচ্ছেন। তাঁর কথার ভঙ্গিতে বিরাট তাড়াহুড়া। মনে হচ্ছে এই মুহূর্তেই কিডনী দরকার।
কথা বলছিস না কেন? একটা কিডনী দিবি?
কেন দেব না।
থ্যাংকস, গাড়িতে উঠ। ড্রাইভারের পাশে বোস। চল বাসায় যাই।
কিডনী কি বাসায় নিয়েই কেটে কুটে রেখে দেবে? ডাক্তার কাটবে না-কি তুমি নিজেই কাটবে? ধারালো স্টেরিলাইজড ছুরি-কাঁচি আছে তো?।
অকারণে কথা বলিস কেন? গাড়িতে উঠ।
আমি গাড়িতে উঠলাম। গাড়িতে AC চলছে। আরামদায়ক শীতলতা। বাইরে বৈশাখ মাসের ঝাঁঝালো রোদ। শহর পুড়ে যাচ্ছে এমন অবস্থা। এই রোদের একটা নাম আছে – কাকমারা রোদ। কাকের মতো কষ্টসহিষ্ণু পাখিও এই রোদে হিট স্ট্রেীকে মায়া যায়। আমি আজ দুটা কাককে মরে থাকতে দেখেছি। মৃত্যুর পর কাকরা কোথায় যায় কে জানে। তাদেরও কি স্বৰ্গ-নরক আছে? কাকদের স্বৰ্গ কেমন হবে? আমার ধারণা তাদের স্বৰ্গে একটু পরপর থাকবে ডাস্টবিন। ডাস্টবিন ভর্তি ময়লা-আবর্জনা। ফেলে ছড়িয়ে আবর্জনা খাও। কেউ কিছু বলবে না।
খালা বললেন, কিডনী দিতে হবে শুনে তুই দেখি ভ্যাবদা মেরে গেছিস। দুটা কিডনী মানুষের কোনো দরকার নেই। একটাতেই হেসেখেলে দিন চলে।
আমি বললাম, দুটা কিডনীতেও তো অনেকের চলে না। অন্যদেরটা নিতে হয়।
খালা বললেন, বাজে তর্ক আমার সঙ্গে করবি না। এই গরমে তর্ক শুনতে ভালো লাগে না।
আমি বললাম, আচ্ছা, আর তর্ক করব না। শীত আসুক। নগর শীতল হোক। তখন তর্ক।
আখের রস খাবি? গরমের সময় আখের রস শরীরের জন্যে ভাল। অনেক এন্টি ওক্সিডেন্ট আছে। খাবি?
খাব।
দুটা আখ থেকে এক গ্লাস রস পাওয়া যায়। হালকা সবুজ কালার। এর মধ্যে লেবুর রস আর সামান্য বিট লবণ দেয়, বরফের কুচি দেয়। খেতে অসাধারণ। আমি রোজ এক গ্রাস করে খাচ্ছি।
জন্ডিস এখনো হয় নাই?
জন্ডিস হবে কোন দুঃখে? আখওয়ালা আমার পরিচিত লোক। নাম সুলেমান। নরসিংদি বাড়ি। সে আমার সামনে মিনারেল ওয়াটার দিয়ে আখ মাড়াইয়ের যন্ত্র ধুবে। আখও ধোয়া হবে মিনারেল ওয়াটার দিয়ে। তার কাছ থেকে অনেক ফরেনারও আখের রস খায়।
কোন দেশী ফারেনার সেটা হিসাবে রাখতে হবে। ইউরোপীয়ান ফরেনার না সোমালিয়ান ফরেনার।
হিমু! একবার না বলছি, আবারো বলছি, তুই বাজে তর্ক আমার সঙ্গে করবি না। আমাকে ফরেনায় শিখাবি না। আগামী আধাঘণ্টা একটা শব্দ উচ্চারণ করবি না। আমি যা বলব শুধু শুনে যাবি।
ওকে।
ওকে ফোকেও বলবি না।
আমি নিঃশব্দে মাজেদা খালার সঙ্গে আখের রস খেলাম (জিনিসটা ভাল)। পাশেই ক্ষিরা কেটে বিক্রি করছে। খালা ক্ষিপ্পা খেলেন। একজন কাসুন্দি দিয়ে কাচা আম মাখিয়ে বিক্রি করছিল। পাঁচ টাকা প্লেট। আমরা তাও খেলাম। সবশেষে তরমুজ।
খালা বললেন, গরমের সব ওষুধ শরীরে নিয়ে নিলাম। শরীরের ডিহাইড্রেশন বন্ধ করার ব্যবস্থা হল। বুঝলি?
আমার কথা বলা নিষেধ। কাজেই হ্যা-সূচক মাথা নেড়ে বুঝিয়ে দিলাম যে— বুঝেছি। মাজেদা খালা, খাওয়া-দাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে কিডনী প্রসঙ্গও খোলাসা করলেন। তাঁর পরিচিত এক ভদ্রলোকের দুটা কিডনীই নষ্ট। ডায়ালাইসিস করে দিন কাটছে। তাকে কিডনী দিতে হবে। তিনি সিঙ্গাপুরে যাবেন কিডনী ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে।
হিমু! তুইও উনার সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাবি। ফাঁকতালে তোর বিদেশ ভ্ৰমণ হয়ে যাবে। ভাল না?
ভাল।
পত্রিকায় প্রায়ই এ্যাড দেখি কিডনী বিক্রি করতে চায়। ওরা ফকিরমিসকিন। ওদের কিডনী কেনার মানে হয় না।
ফকির মিসকিনের কিডনী আর প্রেসিডেন্ট বুশের কিডনীতো একই।
আবার কথা বলা শুরু করেছিস? তোকে না বললাম আধাঘণ্টা কথা বলবি না।
সরি।
যাকে কিডনী দিবি তার সঙ্গে যখন পরিচয় হবে তখন তোর মনে হবে। একটা কেন? দুটা কিডনীই দিয়ে দেই। এমন অসাধারণ মানুষ। বুঝেছিস?
আমি হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়লাম।
খালা বললেন, আমরা ছোটবেলায় তাঁকে ডাকতাম, মুরগি। উনি বই পড়ার সময় নিজের অজান্তেই মুরগির মতো কক কক করেন এই জন্যে মুরগি নাম। তোকে গাড়ি দিয়ে তার কাছে পাঠাব। ঠিকানা দিয়ে পাঠালে তুই যাবি না। আমাকে বলবি— ঠিকানা হারিয়ে ফেলেছিস। তোকে আমি হাড়ে হাড়ে চিনি; যাকে কিডনী দিবি তাঁর নাম পন্টু। অসাধারণ মানুষ। পরিচয় হলেই বুঝবি। উনার দশটা কথা শুনলেই তুই তার কেনা গোলাম হয়ে যাবি। তুই তাঁকে বলবি, আপনি আমার কিডনী, হাট, লিভার সব নিয়ে নিন।
শুধু চামড়াটা নিয়ে আমি বঁচিব কীভাবে?
কথার কথা বলছি রে গাধা।
যার নাম পল্টু এবং যাকে ডাকা হতো মুরগি; তার বিষয়ে আগ্রহী হওয়ার কারণ নেই। বিশেষ করে মাজেদা খালা যাকে অসাধারণ বলেন তার বোকা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। বলা হয়ে থাকে, বুদ্ধিমানের কাছ থেকে দশ হাত দূরে থাকবে। আর বোকাদের কাছ থেকে একশ হাত দূরে থাকবে। দূরে থাকা সম্ভব হল না। খালা গাড়ি করে সেইদিনই পন্টু সাহেবের কাছে পাঠালেন। খালা হচ্ছেন ধর তক্তা মার পেরেক টাইপ মহিলা। দেরি সহ্য করার মেয়ে না।
আমি পন্টু সাহেবের সামনে বসে আছি। ভদ্রলোক বেতের ইজিচেয়ারে শুয়ে আছেন। মাথার নিচে বালিশ। হাতে একটা চটি ইংরেজি বই নাম Love of Lucy লুসির প্ৰেম। বইয়ের কভারে একটা অর্ধনগ্ন বিশাল বক্ষা মেয়ের ছবি। মনে হচ্ছে এই মেয়েটিই লুসি। লুসি। যার প্রেমে পড়েছে তার ছবিও কভারে আছে। বডিবিল্ডার টাইপ এক নিগ্রো। সে কুস্তিগীরের ভঙ্গিতে লুসিকে জড়িয়ে ধরে আছে। কুস্তিগীর লুসির ঘাড়ে চুমু খাচ্ছে। কিন্তু ছবি দেখে মনে হচ্ছে সে লুসির ঘাড় কামড়ে ধরেছে এবং ড্রাকুলার মতো রক্ত চুষে খেয়ে নিচ্ছে। লুসি তাতে মোটেই দুঃখিত না, বরং আনন্দিত।
পল্টু সাহেব গভীর মনযোগে বই পড়ছেন। ঠোঁটে আঙুল দিয়ে আমাকে চুপ থাকতে বলেছেন। মনে হচ্ছে লুসির প্রেমের শেষ পরিণতি না জেনে তিনি আমার সঙ্গে কথা বলবেন না। ভদ্রলোকের মুরগির মতো কিক কক শব্দ করার কথা। তা করছেন না। কক কিক শব্দ করার মত ভাল বোধ হয়। এই বই না।
ভদ্রলোকের বয়স পঞ্চাশের মতো, ভয়ংকর রোগা। গায়ের রঙ অতিরিক্ত ফরসা। কিছু কিছু চেহারা আছে দেখেই মনে হয় আগে কোথায় যেন দেখেছি। এ রকম চেহারা। আইনষ্টাইনের সঙ্গে এই ভদ্রলোকের একটা মিল আছে! মাথায় বাবরি চুল। মুখে গোঁফ। ভদ্রলোক শুয়ে আছেন। খালি গায়ে। লুঙ্গি পরেছেন। সেই লুঙ্গি দূরবতী বিপদ সংকেতের মতো হাঁটুর উপর উঠে আছে। কখন দুর্ঘটনা ঘটবে কে জানে!
পল্টু সাহেব তার পা জলচৌকিতে রেখেছেন। পায়ের কাছে টেবিল ফ্যান। সেই ফ্যান শুধুমাত্র পায়ে বাতাস দিচ্ছে। ঘটনোটা কি বুঝা যাচ্ছে না। ঘটনা বুঝতে হলে লুসির প্ৰেম কাহিনীর সমাপ্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
ভদ্ৰলোক বাস করেন গুলশান এলাকার ফ্ল্যাট বাড়িতে। ফ্ল্যাটটা বেশ বড় { লেকের পাশে। একটা আধুনিক ফ্ল্যাট যতটা নোংরা রাখা সম্ভব তা তিনি রেখেছেন। মনে হচ্ছে ঘর পরিষ্কার করার কেউ নেই। যেখানে সেখানে বই পরে আছে। বেশ কিছু সিগারেটের টুকরা ভর্তি আধা খাওয়া চায়ের কাপ। একটা চায়ের কাপ মেঝেতে কত হয়ে আছে; অনেকখানি জায়গা জুড়ে চা শুকিয়ে কালচে হয়ে আছে। পিপড়েরা খবর পেয়ে গেছে। তবে রান্নাঘর তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার। রান্নাঘরের ব্যবহার মনে হয় নেই।
বাথরুমে উকি দিলাম। বাথটাব, ভর্তি ভেজা কাপড়। কমোড়ের কাছে সবুজ রঙের একটা তোয়ালে। বেসিনের উপর একটা পিরিচে অ্যািধ খাওয়া কেক এবং কলার খোসা। বোঝাই যাচ্ছে, পন্টু সাহেব বাথরুমে খাওয়াদাওয়া করা দোষণীয় মনে করেন না।
ফ্ল্যাটের সাজসজ্জা বলতে দেয়ালে একটি বিশাল সাইজের বাধানো চার্লি চ্যাপলিনের ছবি। আরেকটা মাঝারি সাইজের আইনষ্টাইনের ছবি। আইনষ্টাইন জিভ বের করে ভেংচি কাটছেন।
পল্টু সাহেব লুসির প্ৰেম কাহিনী পড়ে শেষ করেছেন। বই পড়ে আনন্দিত হলেন কি-না বুঝতে পারছি না। ভুরু কুঁচকে আছে। তিনি বই মেঝেতে ছুড়ে ফেলতে ফেলতে বললেন, নাম বল।
আমি বিনয়ের সঙ্গে বললাম, নাম লাভ অব লুসি।
বইয়ের নাম জানতে চাচ্ছি না। বইয়ের নাম জানি। তোমার নাম বল।
স্যার, আমার নাম হিমালয়।
হিমালয় নাম শুনলে সবার মধ্যেই কিছু কৌতুহল দেখা যায়। তাঁর মধ্যে দেখা গেল না। যেন মানুষের নাম হিসেবে হিমালয়, এভারেস্ট, মাউন্ট ফুজি জাতীয় নাম শুনে তিনি অভ্যস্ত।
পল্টু সাহেব ইজি চেয়ারের হাতলে রাখা সিগারেটের প্যাকেট থেকে সিগারেট বের করতে করতে বললেন, চুরির অভ্যাস আছে?
না।
সত্যি বলছতো?
জ্বি স্যার।
তিনি সিগারেটে লম্বা টান দিতে দিতে বললেন, তুমি সত্যি বলছি না। চুরির অভ্যাস নেই এমন মানুষ তুমি কোথাও পাবে না। বড় মানুষরা আইডিয়া চুরি করে। বিজ্ঞানীরা একজন আরেকজনের আবিষ্কার চুরি করেন। মানব জাতির সভ্যতা দাঁড়িয়ে আছে চুরির উপর বুঝেছি?
জ্বি স্যার।
বেতন কত চাও বল? কত হলে পুষাবে সেটা বল। বেতন নিয়ে মুলামুলি করার সময় আমার নেই।
আমি ধাঁধায় পড়ে গেলাম। মনে হচ্ছে বাসার চাকর হিসেবে তিনি আমাকে এপিয়েন্টমেন্ট দিয়ে ফেলবেন।
আগে যে ছিল সে মহাচোর। টিভি, ক্যাসেট প্লেয়ার, ডিভিডি সেট নিয়ে পালিয়ে গেছে। ওর নাম হাশেম। টাকা-পয়সাও নিয়েছে। কত নিয়েছে বের করতে পারি নি। তুমি কি চুরি করবে। আগে ভাগে বল। আমি সোজাসুজি আলাপ পছন্দ করি। বল কি চুরি করবে?
যা ছিল সবাতো আগেরজন নিয়েই গেছে। আমি আর কি নেব। হাশেম ভাইজানতো আমার জন্যে কিছু রেখে যান নি।
আগেরজনকে মাসে তিনি হাজার টাকা দিতাম প্রাস থাকা-খাওয়া। চলবে?
জ্বি স্যার, চলবে।
রান্না করতে জান?
না।
না জানলেও সমস্যা নেই। রেস্টুরেন্টের সঙ্গে ব্যবস্থা করা আছে তারা খাবার দিয়ে যায়। এটা একদিক দিয়ে ভাল। রান্নাঘরে চুলা জুলবে না। মসলার গন্ধ, ধোয়ার গন্ধ আমার কাছে অসহ্য লাগে। কাপড় ধুতে পোর? ওয়াসিং মেশিন আছে। ওয়াশিং মেশিনে ধুবে।
শিখিয়ে দিলে পারব।
আরেক যন্ত্রণা। তোমাকে কে শিখাবে? আমি নিজেও তো জানি না। ইনসট্রাকসান ম্যানুয়েল কোথায় গেছে কে জানে।
আমি বললাম, ধোপাখানায় কাপড় দিয়ে আসতে পারি।
পল্টু সাহেব আনন্দিত গলায় বললেন, ভালো বুদ্ধি। গুড। ভেরি গুড। যাও কাজে লেগে পর l
আমি কদমবুসি করে কাজে লেগে পড়লাম। কিডনী বিষয়ক জটিলতায় গেলাম না। তাড়াহুড়ার কিছু নেই। পল্টু সাহেব অন্য একটা বই হাতে নিয়েছেন। বইটার নাম–The trouble with physics. লেখকের নাম Lee Smokin. কাজের ছেলে হিসেবে আমাকে এপয়েন্টমেন্ট দেওয়ার পর তিনি মনে হয় আমাকে মাথা থেকে পুরোপুরি দূর করে দিয়েছেন। আমার নামও ভুলে গেছেন। এ ধরনের মানুষরা কোনো কিছুই মনে রাখতে পারে না।
প্রথম চাকরি পেলে আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধবদের খবর দিতে হয়। মিষ্টি খাওয়াতে হয়। মৃত বাবা-মার কবর জিয়ারত করতে হয়। যারা দূরে বাস করে, চিঠি লিখে তাদের কাছ থেকে দোয়া নিতে হয়। বিশাল কর্মকাণ্ড। আমি বিশাল কর্মকাণ্ডের শুরুতে মাজেদা খালাকে টেলিফোন করলাম। আবেগ জর্জরিত গলায় বললাম, খালা আপনার দোয়া চাই। আজ চাকরিতে জয়েন করেছি।
খালা বিস্মিত হয়ে বললেন, চাকরিতে জয়েন করেছি। মানে কি? কি চাকরি?
বাসাবাড়ির কাজ। সহজ বাংলায় চাকর; বেতন ভালো পেয়েছি— মাসে তিনি হাজার। থাকা-খাওয়া ফ্রি। ঈদে বোনাস এবং কাপড়।
হড়বড় করে কি বলছিস? গরমে তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?
খালা, তুমি দুএকটা সহজ রান্না শিখিয়ে দিওতো। স্যারকে রান্না করে খাওয়াতে হবে। হোটেলের রান্না খেয়ে স্যারের শরীর খারাপ হবে, এটা হতে দেয়া যায় না।
হাংকি পাংকি কথা বন্ধ করবি? পল্টু ভাইজানের সঙ্গে দেখা করেছিস?
করেছি। উনিই চাকরি দিলেন।
খালা রাগি গলায় বললেন, তুই ভাইজানকে টেলিফোনটা দেতো। আমি উনার সঙ্গে কথা বলি।
আমি বললাম, স্যারকে টেলিফোন দেয়া যাবে না। উনি পড়াশোনা করছেন। আমার উপর ইনসট্রাকসান আছে— পড়াশোনার সময় যদি প্রেসিডেন্ট বুশও টেলিফোন করেন তাকে বলতে হবে–off যান। ইরাকে মানুষ মারা নিয়ে স্ট্র্যাটেজি ঠিক করেন। স্যারকে টেলিফোন দেয়া যাবে না। স্যার ব্যস্ত।
ছাগলামী করবি না। এক্ষুণি ভাইজানকে টেলিফোন দে। আর শোন, তোকে কিডনী দিতে হবে না। তুই মানুষ হিসেবে বিষাক্ত। আমি চাই না তোর শরীরের কোনো অংশ ভাইজানের ভেতর থাকুক।
উনাকে বাচায়ে রাখতে হবে না?
আমি অন্যখান থেকে কিডনী যোগাড় করব। বাংলাদেশে কিডনী পাওয়া কোনো ব্যাপার? ষোল কোটি মানুষের মধ্যে এক কোটি কিডনী বিক্রির জন্যে কাষ্টমার খুঁজছে। ভাইজানকে টেলিফোন দে।
আমি লাইন কেটে দিলাম।
চাকরি প্রাপ্তির আনন্দ সংবাদ আর কাকে দেয়া যায়। অবশ্যই বাদলকে। সেও নতুন চাকরি পেয়েছে, কোনো এক ইউনিভার্সিটিতে ফিজিক্স পড়াচ্ছে। তাৱ ছাত্ৰ-ছাত্রীরা তাকে ডাকছে পাগা স্যার। এটা নিয়ে সে মানসিক সমস্যায় আছে। পগা ডাকের পেছনের কারণ বের করতে পারছে না।
কে, বাদল?
হিমুদা তুমি? আমি জানতাম আজ দিনের মধ্যেই তোমার সঙ্গে যোগাযোগ হবে।
চাকরি পেয়েছি। এই খবরটা দেয়ার জন্যে টেলিফোন করলাম।
তুমি করবে চাকরি— কি বলছ এসব? কোথায় চাকরি করছ?
বাসার চাকর হিসেবে এক বাড়িতে দাখিল হয়ে গেছি। ঘর মোছা, কাপড় ধোয়া, হালকা রান্না— ডাল ভাত ডিম ভাজি।
সত্যি বলছ?
অবশ্যই।
বাদল মুগ্ধ গলায় বলল, আমার কাছে দারুণ একসাইটিং লাগছে। বাসা বাড়িতে কােজ নেয়ার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে। তোমাকে কেউ চিনুক বাঁ না চিনুক, আমি চিনি। হিমুদা, কোথায় চাকরি করছ, কি করছ, একটু দেখে যাই?
আজি না, অন্য একদিন খবর দিয়ে নিয়ে আসব। নতুন চাকরিতো, বসের মেজাজ মর্জি বুঝে নেই। শুরুতেই আত্মীয়-স্বজন বাড়িতে নিয়ে এলে বাস রাগ করতে পারেন।
ঠিক আছে। তুমি যেদিন বলবে আমি সেদিনই চলে আসব। আচ্ছা! হিমুদা, আমাকে যে পগা স্যার ডাকে তার কারণ তোমাকে বের করতে বলেছিলাম, বের করেছ?
করেছি। ইংরেজি ইউনিভার্সিটিতো ছাত্ররা শুরুতে তোকে ডেকেছে হলি কাউ; সেখান থেকে হলি ডাংকি! পবিত্র গাধা। পবিত্র গাধা থেকে পগা।
বল কি?
বাদল, রাখলাম, স্যারের কিছু লাগে কি-না খোঁজ নিতে হবে।
তুমি কি সত্যি-সত্যিই বাসার চাকরের কাজ নিয়েছ?
ইয়েস। বাদল মুগ্ধ গলায় বলল, হাউ এক্সাইটিং। তোমাকে যতই দেখি ততই হিংসা হয়।
আমি বললাম, বাদল, টেলিফোন রাখি, আমার স্যার এখন মুরগির মতো কিক কক শব্দ করছে। ঘটনা কি দেখে আসি।
উনি মুরগির মতো কিক কক করেন?
সব সময় করেন না। ইন্টারেস্টিং কোনো বই পড়ার সময় করেন। টেলিফোন রেখে বিনীত ভঙ্গিতে স্যারের সামনে দাঁড়ালাম। স্যার অবাক হয়ে বললেন, কি ছুটি চাও?
আমি বললাম, নাতো!
চাকরিতে জয়েন করেই সবাই ছুটি চায়। বাবা-মার সঙ্গে দেখা করে আসবে। বিছানা-বালিশ নিয়ে আসবে ইত্যাদি।
ছুটি চাই না। পায়ে বাতাস দিচ্ছেন কেন এটা জানতে চাই।
স্যার উৎসাহিত হলেন। ছাত্রকে শেখাচ্ছেন এমন ভঙ্গিতে বললেন, এরিস্টটলের নাম শুনেছি?
জ্বি না। স্যার। আমি চাকর মানুষ। আমি আমার মতো চাকর-বকিরদের কিছু নাম জানি। উনার মতো বড় মানুষের নাম জানব কিভাবে?
উনি যে বড় মানুষ এই তথ্য তোমাকে কে দিল?
আন্দাজ করেছি। ইংরেজি নামতো, ইংরেজি নামের মানুষরা বড় মানুষ হয়।
কচু হয়। যাই হোক এরিস্টটল কোনো ইংরেজি নাম না। গ্রিক নাম। উনি ছিলেন একজন বিজ্ঞানী এবং দার্শনিক। উনার ধারণা ছিল মানুষের মাথার একমাত্র কাজ এয়ার কন্ডিশনিং-এর মতো বডি কন্ডিশনিং। শরীরের তাপ ঠিক রাখা। যেহেতু এরিস্টটলের মতো বড় মানুষ এই কথা বলেছেন, সবাই ধরে নিল মাথার এইটাই একমাত্র কাজ। মাথার কাজ নিয়ে কেউ আর কোনো চিন্তাভাবনাই করল না। পরের এক হাজার বছর এরিস্টটলের কথাই বহাল রইল। এর থেকে কি প্রমাণিত হয় বল।
প্রমাণিত হয় বড় বিজ্ঞানীদের সব কথা শুনতে হয় না।
গুড। তোমার বুদ্ধি ভাল। একশ টাকা বেতন বাড়িয়ে দিলাম। এখন থেকে তোমার বেতন তিনি হাজার একশ।
স্যার, আপনার অসীম দয়া। কিন্তু পায়ে ফ্যানের বাতাসের ব্যাপারটা এখনো পরিষ্কার হয় নাই।
পল্টু স্যার বললেন, আমার ধারণা শরীরের এয়ার কন্ডিশনিং সিষ্টেম হল পায়ে এবং কানে। খুব যখন ঠাণ্ডা পরে আমরা কি করি? কান ঢাকি এবং পায়ে মোজা পারি। ঠিক কি-না বল।
জ্বি স্যার, ঠিক।
সেখান থেকে আমার ধারণা হয়েছে অতিরিক্ত গরমের সময় যদি পা এবং কান ঠাণ্ডা রাখা যায় তাহলে শরীর ঠাণ্ডা থাকবে। সেই পরীক্ষাই করছি।
স্যার, ফলাফল কি?
ফলাফল পজিটিভ। যদিও কান ঠাণ্ডা করার কোনো বুদ্ধি পাচ্ছি না। পা এবং কান দুটাই একসঙ্গে ঠাণ্ডা করতে পারলে নিশ্চিত হতে পারতাম।
কানে কি বরফ ঘসব স্যার? প্রতি দুই তিন মিনিট পর পর আপনার দুই কানো বরফ ঘসে দিলাম।
পল্ট স্যার আনন্দিত গলায় বললেন, অত্যন্ত ভাল বুদ্ধি। তোমার বেতন আরো পঞ্চাশ টাকা বাড়ালাম। এখন থেকে তোমার বেতন তিন হাজার একশ পঞ্চাশ টাকা।
স্যার, আপনার অসীম দয়া।
অসীম কি জান?
জানি না। স্যার। এইটুকু জানি, অসীম হল অনেক বেশি।
লেখাপড়া কিছু করেছ?
অতি সামান্য।
লেখাপড়া শেখার প্রতি আগ্রহ আছে? শিখতে চাও? শি
খতে চাই না, স্যার।
কেন চাও না?
এত জেনে কি হবে? যত জ্ঞানই হোক মৃত্যুর পর সব শেষ। এই জন্যে ঠিক করে রেখেছি মানকের নাকির এই দুই স্যারের কোশ্চেনের আনসার শুধু শিখে যাব?
পল্টু স্যার অবাক হয়ে বললেন, এই দুইজন কে?
স্যার, ফেরেশতা।
বল কি? নাম শুনি নাইতো। উনারা কোশ্চেন করেন না-কি?
কঠিন কঠিন প্রশ্ন করেন। উত্তর না জানলে বিরাট সমস্যা।
কি প্রশ্ন বলতো? যেমন একটা প্রশ্ন হচ্ছে— তোমার প্রভু কে?
পল্টু স্যার হতভম্ব গলায় বললেন, খুবই কঠিন প্রশ্ন তো। আসলেই তো আমার প্রভু কে? আমার প্রভু কি আমার সাব কনশাস। মাইন্ড, নাকি আমার কনশাস। মাইন্ড? কে আমাকে কনট্রোল করে?




Himur Ekanto Sakkhatkar By Humayun Ahmed (হিমুর একান্ত সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য -হুমায়ূন আহমেদ)

Tuesday, July 10, 2018 0
Himur Ekanto Sakkhatkar By Humayun Ahmed (হিমুর একান্ত সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য -হুমায়ূন আহমেদ)
বই বিষয়ে চৈনিকদের একটি প্রবচন হচ্ছে- বই হলো একটা বাগান যা পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো যায়। গল্প সংকলনের জন্য এই প্রবচন খুব সত্যি। বাগানে নানান ধরনের ফুল, সৌরভ আছে বর্ণ নেই। বর্ণ আছে গন্ধ নেই। গল্প সংকলনেও তো এই ব্যাপারই।
প্রতিটি গল্প শুরুর আগে গল্প বিষয়ে কিছু কথাবার্তা বললাম। গল্পটি কেন লিখেছি, কিভাবে লিখেছি এই সব হাবিজাবি। যে সমস্ত পাঠক হাবিজাবি পছন্ত করেন না তারা মূল গল্পে চলে গেলে ভাল হয়।
সংকলনটি নাম আমার দেয়া না। প্রকাশকের দেয়া। তার ধারণা হিমু নামটা কোন না কোন ভাবে থাকা মানেই বেশি বিক্রি। আমি তরুণ প্রকাশকের ভুল ভাঙ্গাইনি।
হুমায়ূন আহমেদ
 


Aaj Himur Biye By Humayun Ahmed (আজ হিমুর বিয়ে হুমায়ূন আহমেদ)

Tuesday, July 10, 2018 0
Aaj Himur Biye  By Humayun Ahmed (আজ হিমুর বিয়ে হুমায়ূন আহমেদ)
হিমুর কয়েকটি বই পড়ার পর বুঝেছিলাম যে সে আধ্যাত্মিক ক্ষমতা সম্পন্ন কোন মানুষ যে মায়ায় জড়ায়না কিন্তু পৃথিবীর মায়া তাকে জড়িয়ে থাকে।খালি পায়ে হাঁটা অকারণে বকবক করা,কোন এক গাছের নিচে বা জেলখানায় বসে শান্তিতে ঘুমা,ভাবুক স্বপ্ন দেখা এবং আশেপাশের মানুষগুলো সুখে রাখাই বৈশিষ্ট্য। "আজ হিমুর বিয়ে" বইটি হাতে পাওয়ার পর ভেবেছিলাম হিমু বিয়ে করবে! তখন কি তার হাঁটার সমাপ্তি ঘটবে। মেয়েটা কে,সেটা নতুন কোন চরিত্র কিনা যাকে হুমায়ূন আহমেদ হিমুর মতোই বিশ্লেষণ করেছেন। অনেকটা রহস্য নিয়ে বই পড়া শুরু করেছিলাম।এতো বেশি মজা পেয়েছিলাম যে ক্লাসের মধ্যে মনযোগ এই বইটিতে ছিল।শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হেসেই গেছি।হিমুর বিয়ের পরিনতি কি হয়েছিল জানতে চান? আজ হিমুর বিয়ে পড়ুন।কোন একটা কারণে আমার মনটাও ভীষন খারাপ হয়েছিল।"আজ হিমুর বিয়ে " পড়ে কয়েকটি উক্তি অনেক ভাল লেগেছে তার একটি শেয়ার করছি"তুমি নিজেকে যা মনে করো তুমি তাই।তুমি যদি নিজেকে মহাপুরুষ ভাব তুমি মহাপুরুষ।আর তুমি যদি নিজেকে পিশাচ ভাব তুমি পিশাচ"এরকম আরো অনেক হৃদয়স্পর্শক উক্তি পাবেন :) হুমায়ূন স্যার হিমু চরিত্রায়নের মধ্য দিয়ে পাঠকদের যেমন বিনোদন দিয়েছেন তেমনি অসংখ্য সত্য কথা, কঠিন ভাষ্যও পৌঁছে দিয়েছেন সহজ ভাষায়....

মনে করুন আপনি সকালবেলার মানে কাকডাকা ভোরে একটা টেলিফোন পেলেন। আপনার অত্যন্ত আপনজন আপনার জন্যে পাত্রী নির্বাচন করে রেখেছেন - সেইদিনই রাত্রি ন'টায়। আস্তে আস্তে এও জানতে পারলেন পাত্রীর প্রবল অমত। কারণ, সে অন্য একজনকে ভালোবাসে এবং সে ড্রাগ-আডিক্ট। আপনি কী করবেন? হিমুরও একই অবস্থা। রেনুর সাথে তার বিয়ে ঠিক। রেনূ যাকে বিয়ে করতে বদ্ধপরিকর তার নাম তূর্য, আপাতত সে জেলখানায়, রানুর সাথে প্রেম করার অপরাধে। মাজেদা খালার জন্যে হিমু, রেণু ও তূর্য - তিনজনেই অগাধ সমুদ্রে। খালাও আছেন স্বমহিমায়, হিমুর বিয়ে আটকাতে তৎপর। আর আছেন ওসি, মকবুল, পচা বাবা - যারা হিমুর খামখেয়ালীর কাছে বিপর্যস্ত। আছে রেনুর মা, বাবা, ক্ষুর আসলাম - সব মিলিয়ে একদিনের কাহিনী - হিমুর ভাষায় এক মহান গিট্টু....


Monday, July 9, 2018

Himu Mama By Humayun Ahmed (হিমু মামা হুমায়ূন আহমেদ)

Monday, July 09, 2018 0
Himu Mama By Humayun Ahmed (হিমু মামা হুমায়ূন আহমেদ)

আচ্ছা হিমু হতে হলে কি বড় হতে হয় ? অনেক বড় ? নাকি ছোটরাও হিমু হতে পারে ? কীভাবে হিমু হতে হয় ? আমি জানি না । তবে টগরের হিমু মামা জানে। টগর স্ট্যান্ডার্ড সিক্সে পড়ে । অতি ভালো ছেলে তবে দুষ্টুর শিরোমনি আর কি ! আজ সন্ধ্যায় টগরদের বাসায় ধুন্ধুমার কান্ড হবার কথা আছে । টগরের ছোটমামা অর্থাৎ শুভ্রকে ছেঁচা দেওয়া হবে । ছেঁচা দিবেন টগরের বড় চাচা চৌধুরী আজমল হোসেন । শুভ্র ভয়ানক অন্যায় করে ফেলেছে । বুধবার সকাল এগারোটায় হলুদ পাঞ্জাবি পরে হঠাৎ করেই সে হিমু হয়ে গেছে । শুভ্র ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়েছে । খুব ভালো ছাত্র । টগর তার মামার খুব ভক্ত । মামার কাছ থেকে এখন সে ট্যারা হওয়ার ট্রেনিং নিচ্ছে । টগরের মামা খুব ভালো ট্যারা হতে পারে । টগরদের বাসায় বাবা-মা , দাদিয়া , বড় চাচা , ছোট মামা আর ছোটবোন নিলু থাকে । বাসার সবার কান্ডকারখানা পড়লে হাসতে হাসতে পেট ব্যাথা হয়ে যাবে । টগরের মা নানা রকম স্পেশাল আইটেম রান্না করেন । তবে সেগুলো খেতে বিদঘুটে হয় বলে বাসার কেউ খেতে পারে না । বড় চাচাকে বাসার সবাই ভয় পায় । তিনি টগরদের বাড়ির যে কোন অন্যায়ের বিচার করে থাকেন । দাদিয়া ছাড়া আর কারো বড় চাচার মুখের উপর কথা বলার সাহস নেই । দাদিয়া খুব ভালো । বাচ্চাদের খুবই আদর করেন । টগরের ধারণা তার স্ট্যান্ডার্ড সেভেনে পড়া বড় বোন নিলুর মাথায় কোন বুদ্ধি নেই , সে ঝগড়াটে স্বভাবের । ও টগর সম্পর্কে তেমন কিছুই তো বলা হল না । টগরের একটা গোপন জায়গা আছে । সিঁড়িঘরের সঙ্গের যে বাথরুম সেটার ফলস সিলিং হল টগরের গোপন জায়গা । thief box নামের একটা বাক্সে ছুরি করা জিনিস সে অল্প কিছু দিনের জন্য লুকিয়ে রাখে । তারপর যথাস্থানে ফেরত দেয় । পাপ-পুণ্যের হিসাব রাখার জন্য তার একটা খাতা আছে । টগর সারাদিন কী কী পাপ-পুণ্য করেছে তার হিসাব এই খাতায় লিখে রাখে । তার ধারণা দুষ্টুমি করলে পাপ হয় আবার ভালো কাজ করলে পাপ কাটা গিয়ে পুণ্য হয় । একারণেই দুষ্টুমি করলে ভালো কাজ করে পাপ কেটে দেয় । সন্ধ্যার পর বিচার শুরু হলে জানা গেল হিমু হওয়ার জন্য শুভ্র ছাদে মাটি তোলার জন্য লোক রেখেছে । বড় চাচা বিচার সভায় ঠিক করলেন শুভ্র কেন হিমু হতে চায় এটা নিয়ে তাকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে । প্রতিবেদন বড় চাচার কাছে জমা দিয়েই শুভ্র হিমু হওয়ার তপস্যা পুরোপুরি শুরু করে দিল । চৌবাচ্চার পানিতে গলা ডুবিয়ে বসে থাকা শুরু হল । ব্যাস , ওমনি চারদিকে নানা মজার ঘটনা ঘটতে লাগল । টগরের দুষ্টুমির মাত্রাও বেড়ে গেল , বাসায় নানা রকম অদ্ভূত ঘটনা ঘটা শুরু হল কিন্তু বড়রা সেগুলোর কিছুই ধরতে পারে না । টগরের রাগী গৃহশিক্ষক রকিব উদ্দিন ভূঁইয়া ও একসময় শুভ্রর সাথে পানিতে নেমে গেলেন । শুভ্রর চিকিৎসা করার জন্য নিয়ে আসা হল সাইকিয়াট্রিস্ট শামসুক হক পিএইচডি কে । ইউনিভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষার জন্য শুভ্র পানি থেকে উঠে পড়ল । বোকা সাইকিয়াট্রিস্ট শুভ্র ভেবে তিন ঘন্টা চৌবাচ্চায় কাটিয়ে দিলেন রকিব স্যারের সাথে আর বাসার সবাই তাকে গাধার বাচ্চা বলে গালি দিল । এদিকে এই ক'দিনে টগর ট্যারা হওয়া সিখে গেল । স্কুলের সবাই তাকে এখন ডাকে ট্যারা টগর । মূলত ছোটদের বই হলেও ছোট বড় নির্বিশেষে সকলেরই এক নিশ্বাসে পড়ে ফেলের মত বই । ছোট বন্ধুরা হিমু মামা না পড়লে কিন্তু মজা মিস হয়ে যাবে ।



Se Ashe Dhire By Humayun Ahmed (সে আসে ধীরে হুমায়ূন আহমেদ)

Monday, July 09, 2018 0
Se Ashe Dhire By Humayun Ahmed (সে আসে ধীরে হুমায়ূন আহমেদ)


বাংলা সাহিত্যে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হুমায়ন আহামেদ। তার লেখা অসংখ্য উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছে। হুমায়ন আহমেদের লেখনী গুলো সব সময় পাঠকদের মনে দাগ কাটে। তিনি সব সময় বাস্তব ধর্মী ও মানুষের জীবন গাঁথাকে অনেক সুন্দর ভাবে বিশ্লেষণ করে তুলেন তার লেখুনীতে। তার এক অনন্য সৃষ্টি হিমু চরিত্র। হিমু নামের এই অদ্ভুত চরিত্রের মাঝে ফুটিয়ে তুলেছেন সমাজের বিভিন্ন দিক। হিমুর বৈশিষ্ট্য অন্য রকম অনেক অদ্ভুত। সে সতন্ত্র ব্যাক্তিত্বের অধিকারি সে সব সময় যুক্তি বিরোধী মতানুসারে আচরন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে তুলে। তার কোন লোভ লালসা, হিংসা, ভয়, কিছুই নেই। তবে সে বেশ বুদ্ধিমান ও রসবোধ সম্পন্ন। বাউন্ডলে জীবন যাপন করেও সবসময় তিনি মানুষের উপকারে চলে আসেন । মোটামুটি ভাবে বলতে গেলে আমি হিমু সিরিজের বেশ ভক্ত। হলুদ পাঞ্জাবী পড়া এই চরিত্রটি আমার কাছে বেশ অর্থ বহ মনে হয়। হিমু সিরিজের " সে আসে ধীরে" নামক উপন্যাস পড়লাম।বইটির কাহিনী সংক্ষিপ্ত বলতে গেলে হিমুর খালার এক অষ্টেলিয়া প্রবাসী নি:সন্তান বান্ধবীর জন্য দত্তক ছেলে লাগবে। যেনতেন ছেলে হলে চলবে তার বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য থাকা লাগবে। হিমুর খালা হিমুকে দায়িত্ব দেওয়ার পর হিমু তার পরিচিত এক পরিবারের ছেলেকে সিলেক্ট করে। নিম্নবিত্ত পরিবারটির জীবন চিত্র ফুটে উঠছে গল্পটির মধ্যে। ছেলেটির মা বেশ অসুস্থ সুস্থ করার জন্য বেশ কিছু টাকা লাগবে যা ছেলেটির বাবার কাছে সম্ভব নয়। ছেলেটিকে দেখার পর তার খালার বান্ধবীর পছন্দ না হলেও কিছুক্ষণ কাছে রাখার পর সে ছেলেটির মায়ায় জড়িয়ে পড়ে। নানা রকম ঘটনা চলতে থাকে কাহিনী তারপর একসময় হিমুর খালার বান্ধবী জানতে পারেন যে তিনি মা হতে পারবে। হিমুকে তিনি উপহার দিতে চান কিন্তু হিমুর চাওয়া হয় শিশুটির মাকে সুস্থ করার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর ব্যাবস্থা করা।বইটি বেশ কিছু মজার ঘটনা ও তুলে ধরেছেন হুমায়ন আহামেদ যা অনেক ভাল লাগে।উচ্চবিত্ত পরিবার ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জীবনযাপন অনেকাংশ ফুটে উঠে এই বইটিতে। বইটির গল্প আহামরি না হলেও কেমন যেন একটা টান অনুভব হয় পড়তে গিয়ে। পাঠকদের বলব হুমায়ন আহামেদের বই যারা পড়েন তাদের জন্য উপহার সরুপ গল্প এটি। তাই বলব মিস করবেন না পড়লে। আশাকরি আপনাদের কাছেও ভাল লাগবে।


Chole Jay Bosonter Din By Humayun Ahmed (চলে যায় বসন্তের দিন হুমায়ূন আহমেদ)

Monday, July 09, 2018 0
Chole Jay Bosonter Din By Humayun Ahmed (চলে যায় বসন্তের দিন হুমায়ূন আহমেদ)

টেলিপ্যাথি করে কখনো কাউকে ডেকেছেন? কি অদ্ভুত না? একজন মানুষের সাথে শুধুমাত্র মস্তিষ্ক দিয়ে ডেকে আনা যায়! জহির এভাবে হিমুকে ডাকত। জহিরের সমস্ত ভাব হিমুর সাথে। ফুলফুলিয়া নামের যে মেয়েটিকে জহির বিয়ে করতে চায় তার সব কথাই সে শুধু হিমুকে বলে। জহির খুব ব্রিলিয়ান্ট ছাত্র হলেও কিছু কিছু উদ্ভট চিন্তা তার মাথায় আসে। এই মুহূর্তে তার মাথায় ফুলফুলিয়া ছাড়াও আরেকটি চিন্তা আছে। সেটি হচ্ছে একটা কফিশপ দেয়া যার নাম হবে ‘কফিতা’। বিভিন্নভাবে জহির এই কফিতা শুরু করার চেষ্টায় থাকে। এদিকে জহিরের মা হিমুকে বলে দেন ফুলফুলিয়াকে জহিরের জীবন থেকে বিদায় করার জন্য। হিমু দেখা করতে যায় ফুলফুলিয়ার সাথে। সেখানে গিয়ে তার বাবার সাথে হিমুর পরিচয় হয়। তিনি একজন ব্যাঞ্জ বাদক। হিমু এক ধরণের আকর্ষণে পরে যায়। ঘটনা প্রবাহিত হতে থাকে ভিন্ন খাতে। এদিকে জহির পরীক্ষা না দিয়ে বের হয় হাঁটার উদ্দেশ্যে। ছয় মাস সে শুধু হাঁটার পরিকল্পনা করে। এত চরিত্রের মাঝে একটা অদ্ভুদ চরিত্র চলে আসে যা হল একটি গাছ। রাধাচূড়া গাছ। আচ্ছা গাছ কি করে চরিত্র হয়? জহির, ফুলফুলিয়া আর রাধাচূড়া- এদের নিয়ে বাকিসব জানতে হলে পড়তে হবে হুমায়ূন আহমেদের লেখা খুব জনপ্রিয় বই ‘চলে যায় বসন্তের দিন’। পড়া না হয়ে থাকলে আজই সংগ্রহ করে ফেলুন! পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ হিমু থাকবে অথচ মানুষের ভালোবাসা পাবে না এমন হয়? যথারীতি বইটি পড়ার সময় কখনো হাসছিলাম, কখনো অবাক হচ্ছিলাম। হিমুকে বরাবরই পড়তে গেলে আপন আপন লাগে। মনে হয় যে কথাগুলো আমি বলতে পারছি না সেগুলো হিমু বলে দিচ্ছে! এই গল্পে ফুলফুলিয়াকে আমার খুব ভাল লেগেছে,সাথে জহিরকেও। সত্যি বলতে জহিরের ভাবনার মত আমারও একটা ‘কফিতা’ দিতে ইচ্ছে করছে! হিমু শুধু হলুদ পাঞ্জাবী পরে ঘুরে বেড়ালেও সে যে আমাদেরকে কতটা রঙিন ভালোবাসা দিয়ে যায় তা কি সে জানে? জানতে পারবে কখনো?

Tomader Ei Nogore By Humayun Ahmed (তোমাদের এই নগরে হুমায়ূন আহমেদ)

Monday, July 09, 2018 0
Tomader Ei Nogore By Humayun Ahmed (তোমাদের এই নগরে হুমায়ূন আহমেদ)
আমার অনেক দিন থেকেই ক্ষীণ সন্দেহ হচ্ছিল–আজ আমিও নিশ্চিত হয়েছি যে আমি পাগলের মতো আপনার প্রেমে পড়ে গেছি। কীভাবে নিশ্চিত হলাম জানেন? আপনাকে দেখার পর থেকে আমার কান্না পাচ্ছে। Strange type কান্না। মনে হচ্ছে সারা শরীরে কান্নাটা ছড়িয়ে আছে। ব্যথার মতো অনুভূতি। ব্যথাটা দলা পাকিয়ে ঢেউ এর মতো গলা পর্যন্ত ওঠে আসছে। সরি অনুভূতিটা আপনাকে বুঝাতে পারছি না।... অথচ আশার মোটেই অমোন হবার কথা ছিলো না। জীবনে কিছু কিছু সময় না আসলে, কারো সংগে দেখা না হলেই কি তবে ভালো হয়? সেই সব অদ্ভুত সময় চেতনাকে গাঢ় ভাবে আছন্ন করে রাখে। বাস্তব বড্ড ফিকে মনে হয়, খুব আপন করে পেতে ইচ্ছে করে কল্পনাগুলো.... যেই কল্পনা কখনোই আমাদের ছিলো না। তখন অগোচরে ভেসে যাওয়া ছাড়া আর কি ই বা করার থাকে !? এই গল্পটা কি তবে আশার ভেসে যাওয়ার???? ম্যানেজার টেলিফোনে রূপাকে ধরে দিল। রূপা শান্ত গলায় বলল, এত দিন পর হঠাৎ কী ব্যাপার? কোন ব্যাপার না। গলার স্বর শোনার জন্যে টেলিফোন করলাম। গলার স্বর তো শোনা হয়েছে। এখন কি টেলিফোন রেখে দেব? না আরো কিছুক্ষণ শুনি। কতক্ষণ? মিনিমাম তিন মিনিট। তিন মিনিট কেন? গান তিন মিনিটের মতো হয়। সেই জন্যেই তিন মিনিট।.... আমি জানি না তখন রূপার কি সত্যিই রাগ লেগেছিলো কিনা। ভালোবেসে ব্যাথা দিলেও তা নাকি প্রাপ্তির খাতায় যোগ হয়! তবে আমার কেনো যেনো খুব মনে হচ্ছিলো রূপার জন্যেই কি কবি লিখেছিলেন- যদি ভুলে যাবার হয়, ভুলে যাও। দূরে বসে বসে মোবাইলে, ইমেইলে হঠাৎ হঠাৎ জ্বালিয়ো না, দূরে বসে বসে নীরবতার বরফ ছুড়ে ছুড়ে এভাবে বিরক্তও করো না। ভুলে গেলে এইটুকু অন্তত বুঝবো ভুলে গেছো,... গল্পটা কি তবে জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে যাবার??? নকল দৃশ্য। বানানো, মিথ্যা। কিন্তু দেখে সেরকম মনে হচ্ছে না। আশা গভীর মমতায় জয়নাল সাহেবের বুকে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখ ছলছল করছে। যে কোনো মুহূর্তে চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়বে। মন বড় টলমল করছে। জয়নাল সাহেব বিড়বিড় কথা বলছেন; যে গাঢ় মমতা নিয়ে তিনি কথা বলছেন-— এত মমতায় এর আগে কি কোনো পিতা তাঁর কন্যার সঙ্গে কথা বলেছে?.... অথচ তার জানা পুরো দৃশ্যটাই মিথ্যা! এই গল্পটা কি তবে মিথ্যের!! একগুচ্ছ সুখময় মিথ্যে বুকে চেপেই কি আমরা কাটিয়ে দিচ্ছি সারাটা জীবন!!! পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ আমি কখনোই হিমু হতে চাইনি, অথচ কি আশ্চর্য! আমি বরাবরই রূপার প্রেমে পড়ি!! সব সময় এই মেয়েটার জন্য এক ভালোবাসা মিশ্রিত মায়া অনুভূত হয়! কি নিদারুণ ভালোবেসেই না মেয়েটা ব্ল্যাকহোলে জ্বালিয়ে যাচ্ছে প্রেমের প্রদীপ!! আমি আশার ভালবাসার প্রেমে পড়ে গেছি। সম্পূর্ণ পরাজিত হয়েই তো মানুষ সত্যিকারের ভালোবাসে, তবুও কেনো ভুল সময়ে এই হেরে হেরে যাওয়া??? স্যার, আপনাকে বলছি- এমন সুন্দরতম দৃশ্যগুলোর সৃষ্টি কেনো করেছেন! জাপানী প্রবাদ নাকি বলে, "একটা আন্তরিক কথায় নাকি তিনটা শীতকাল উষ্ণ করা যায়" তাই বলে একজীবনের বৃষ্টি দিয়ে কেনো কেনো আমাদের সারা জীবন ভিজিয়ে দিয়ে গেলেন!!!? বইটা শেষ করে আমি বরানরই আছন্ন হয়ে যাই। পরবাসী সুন্দরী, তোমার কথা মনে পড়ে। ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে। দূরে গান বেজে উঠে- এসো নীপবনে ছায়াবীথি তলে, এসো করো স্নান নবধারা জলে.....


Ekjon Himu Koekti Jhin Jhin Poka By Humayun Ahmed (একজন হিমু কয়েকটি ঝিঁঝিঁ পোকা হুমায়ূন আহমেদ)

Monday, July 09, 2018 0
Ekjon Himu Koekti Jhin Jhin Poka By Humayun Ahmed (একজন হিমু কয়েকটি ঝিঁঝিঁ পোকা হুমায়ূন আহমেদ)
ভূমিকা
হিমু কখনো জটিল পরিস্থিতিতে পড়ে না। ছোটখাট ঝামেলায় সে পড়ে। সেই সব ঝামেলা তাকে স্পর্শও করে না। সে অনেকটা হাঁসের মত। ঝাড়া দিল গা থেকে ঝামেলা পানির মত ঝরে পড়ল।
আমার খুব দেখার শখ বড় রকমের ঝামেলায় পড়লে সে কী করে। কাজেই হিমুর জন্যে বড় ধরনের একটা সমস্যা আমি তৈরি করেছি। এবং খুব আগ্রহ নিয়ে তার কাণ্ড–কারখানা দেখছি।
হুমায়ূন আহমেদ
নুহাশপল্লী, গাজীপুর।

আমার চেহারায় খুব সম্ভবত I am at your Service জাতীয় ব্যাপার আছে। আমি লক্ষ করেছি প্রায় সব বয়েসী মেয়েরা আমাকে দেখলেই টুকটাক কিছু কাজ করিয়ে নেয়। তার জন্যে সামান্য অস্বস্তিও বোধ করে না।
নিতান্ত অপরিচিত মহিলা নির্বিকার ভঙ্গিতে আমাকে বলবে–এই ছেলে, এই হলুদ পাঞ্জাবি, একটা রিকশা খুঁজে দাও তো। রিকশা না পেলে বেবিটেক্সি। মালীবাগ যাব। ভাড়া ঠিক করে এনো। কেয়ক
এই ধরনের কাজ আমি আগ্রহের সঙ্গে করি। দরদাম করে রিকশা ঠিক করি, জিনিসপত্র তুলে দেই। খট করে রিকশার হুড তুলি। এবং শেষপর্যায়ে প্রিয়জনদের উপদেশ দেবার মতো সামান্য উপদেশ দেই–শাড়ি টেনে বসুন। চাকার সঙ্গে পেঁচিয়ে যেতে পারে। হ্যাঁ এইবার হয়েছে।
শেষ উপদেশ রিকশাওয়ালাকে, রিকশা দেখেশুনে যাবে। No ঝাঁকুনি।
হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে কেউ যদি দেখে তার পাশে এমন একজন লোক বসে আছে যার চেহারা তক্ষকের মত, এবং সে ক্রমাগত মুখ নাড়ছে। কিন্তু মুখ থেকে কোনো শব্দ বের হচ্ছে না। তখন কী করা উচিত? লাফ দিয়ে উঠে বসে–কে কে বলে চিৎকার করা উচিত, না-কি প্রাথমিক ধাক্কাটা সামলাবার জন্যে আবার চোখ বন্ধ করে ফেলা উচিত?
আমি লাফ দিয়ে উঠে না বসে চোখ বন্ধ করে ফেললাম। ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি বিবেচনা করা যাক। ঠাণ্ডা মাথায় বিবেচনা করলে হয়ত দেখা যাবে ব্যাপারটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। জগতের অতি স্বাভাবিক ঘটনাগুলিও শুধু পরিস্থিতির কারণে অস্বাভাবিক মনে হয়।
যেহেতু আমার ঘরের দরজা সব সময় খোলা থাকে সেহেতু যে কেউ আমার ঘরে ঢুকতে পারে।
লোকটা চেয়ারে না বসে আমার গা ঘেসে বিছানায় বসে আছে। এরও যুক্তি সঙ্গত কারণ আছে। আমার চেয়ারের একটা পা নড়বড়ে। সে হয়ত চেয়ারে বসতে গিয়ে ভরসা না পেয়ে আমার বিছানায় বসেছে।
নতুন জামা উপহার পেলে জামা গায়ে দিয়ে যিনি উপহার দিয়েছেন তাকে সালাম করতে হয়। নতুন মোবাইল পেলে কী করতে হয়? মোবাইল কানে লাগিয়ে পা ছুয়ে সালাম? অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা। আমি খালার সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। ধানমন্ডিতে বাড়ি। এক বিঘা জমির উপর ছিমছাম ধরনের বাড়ি। সামনে বিরাট লন।
পাখির সঙ্গে কি মোবাইল টেলিফোনের কোনো মিল আছে? পাখিরা উড়ে বেড়ায়। মোবাইল টেলিফোনও এক জায়গায় স্থির থাকে না–মানুষের হাতে কিংবা পকেটে ঘুরে বেড়ায়। পাখিরা কিচকিচ শব্দ করে মানুষের ঘুম ভাঙায়। মোবাইল ফোনও তাই করে। এই মুহুর্তে আমার ঘুম ভেঙেছে মোবাইল টেলিফোনের শব্দে।
আমার কি উচিত মানুষের সব কথা বিশ্বাস করা? তর্কে যাকে পাওয়া যায় না, তাকে পাওয়া যায় বিশ্বাসে। তর্ক হল আগুনের মত। যে-আগুনের কাছে এলে বিশ্বাস বাম্পের মত উবে যায়। মালিহা খালার বাসা থেকে বের হলাম মন খারাপ করে। খালা এবং তার স্বামী দুজনে মিলে আমাকে বোকা বানিয়েছে মন খারাপটা...